দেশি মাছের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা - প্রোটিন ও ওমেগা-ৃ এর সেরা উৎস
বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরের দেশি মাছ আমাদের পুষ্টির অন্যতম সেরা উৎস। রুই, কাতলা, ইলিশ, পুঁটি, কৈ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছোট মাছ আমাদের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
কাদের জন্য উপকারী
হার্টের রোগীদের জন্য দেশি মাছ বিশেষভাবে উপকারী কারণ এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা কোলেস্টেরল কমায়। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য মাছ অপরিহার্য কারণ এতে উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে যা তাদের সুস্থ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রেগন্যান্ট ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্যও মাছ অত্যন্ত উপকারী। বয়স্কদের হাড় ও মাংসপেশি মজবুত রাখতে নিয়মিত মাছ খাওয়া জরুরি।
সাবধানতা
সবসময় তাজা মাছ কিনুন কারণ বাসি মাছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। মাছ ভালভাবে রান্না করুন কারণ কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ মাছে পরজীবী থাকতে পারে। মাছে অ্যালার্জি থাকলে এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্তভাবে তেলে ভাজা মাছ এড়ান কারণ এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যুক্ত হয়।
সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম
সপ্তাহে ৩-৪ দিন ১০০-১৫০ গ্রাম মাছ খান। ছোট মাছ (পুঁটি, কৈ) দৈনিক ২-৩ পিস খেতে পারেন। বড় মাছ (রুই, কাতলা) ১-২ পিস যথেষ্ট। ইলিশ মাছ সপ্তাহে ১-২ বার ১০০ গ্রাম পরিমাণে খান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু মানুষের মাছে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে মার্কারি পয়জনিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দূষিত মাছ খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত ভাজা মাছ খেলে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে।
নিয়মিত দেশি মাছ খেয়ে আপনি সহজেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।